ঢাকা, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২০, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Bangla Insider

টিভি নাটকের প্রযোজক কে, কারা ?

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩ জুলাই ২০১৭ সোমবার, ০৭:২০ পিএম
টিভি নাটকের প্রযোজক কে, কারা ?

একটি নাটক নির্মাণের পেছনের গল্প জানেন? প্রতিদিন টিভিতে নাটক-টেলিফিল্ম প্রচার হচ্ছে। ঈদ গেল,শ-চারেক নাটক প্রচার হয়েছে। আলোচনা-সমলোচনা কম হয়নি। কিন্তু কখনো কী আমরা ভাবি একটি নাটকের নির্মাণ ব্যয় কত? দিনশেষে এটা একটি ইন্ডাষ্ট্রি। এখানে টাকা লগ্নি করা হয় মুনাফা লাভের আশায়। বাস্তবে কি তা সম্ভব? একটা নাটক কত টাকা ব্যয়ে নির্মাণ হয় আর কত টাকায় চ্যানেলের কাছে বিক্রি হয়? নাটক অঙ্গনে চিরাচরিত একে অন্যের দিকে দোষারোপ, বাজেট নেই। বাস্তবিক চিত্র তো ভিন্ন। বাংলাদেশের নাটক বিদেশেও শুটিং হচ্ছে। খবর মেলে, পরিচালক এক ইউনিট নিয়ে মাস খানেকের জন্য দেশের বাহিরে যাচ্ছে। সিঙ্গাপুর , মালয়েশিয়ায,অষ্ট্রেলিয়া এমনকি আমেরিকা লন্ডনেও নাটকের শুটিং হচ্ছে। গেল কয়েক বছরের চিত্র দেখলে স্পষ্ট এসব নাটক তারুণ্যকে প্রাধান্য দিয়েই নির্মাণ হয়। যেন তারুণ্যের জোয়ার সব বিদেশেই বহে। বিদেশে শুটিং হয়েছে আর আপনার ভালো লেগেছে এমন কয়টা নাটকের নাম আপনি বলতে পারবেন? বাজেট না থাকলে কীভাবে সম্ভব এত টাকা ব্যয়? ভাবছেন চ্যানেল এত টাকা দিয়ে প্রযোজকের কাছ থেকে নাটক কেনে? বিদেশে শুটিং আর কাস্ট ক্রু মিলিয়ে যে খরচ সে টাকা দিয়ে চ্যানেল নাটক কিনলে স্পন্সর কোথায় পাবে? চ্যানেল তার আদর্শিক দিক থেকে কখনোই নড়ে না। তাদের মূল ফোকাস ব্যবসা। বাংলাদেশের ইতিহাসে কোন বেসরকারী চ্যানেল কর্তৃপক্ষ বলতে পারবে না আমরা ব্যবসা বাদ দিয়ে সংস্কৃতিকে মুখ্য হিসেবে দেখি। এটা সম্ভবও নয় দিন শেষে। প্যাকেজ নাটক, পৃথিবীতে বোধ হয় এই একটা জিনিসেরই দাম সবচেয়ে বেশি কমেছে গত পাঁচ বছরে। এখন এক লাখ ৮০ হাজার বা দুই লাখ টাকার ওপরে কোনো নাটকের বাজেট গেলে সেটাকে আত্মহত্যা বলেই ধরে নেয়া যায়। তারপর আবার আমাদের স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলোর প্রযোজকদের সাথে চুক্তির সময়সীমা রক্ষার যে আন্তরিকতা টিভি চ্যানেলগুলোর! তিন মাসের মধ্যে মূল্য পরিশোধের কথা চুক্তিতে লেখা থাকলেও, সেই তিন মাস মাঝে মধ্যে তিন বছরেও শেষ হয় না কোনো কোনো চ্যানেলের। কিন্তু নাটক তো নির্মাণ হচ্ছে। দর্শক উপভোগ করছে।
 
কোন প্রযোজক সহসা আপনার চোখে পড়ে না কেন? উত্তরটা সহজ করে দিলে। বেশিরভাগ প্রযোজকরা মৌসুমী ফলের মতো। এদের দেখা সবসময় মেলে না। এদের সবাই চেনেও না। আর এই মৌসুমী প্রযোজকরা বাজেট দিতেও কার্পণ্য করে না। তাদের হাতে রয়েছে অজস্র টাকা। তাঁরা কি মিডিয়ায় শিল্প চর্চা করতে আসে? হঠাৎ করে একজন বিল্ডার্সের সংস্কৃতি চর্চার উদ্রেক কেন হবে মনে? বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শোনা যায় পরিচালক আর নায়িকা ধরে নিয়ে আসে প্রযোজক। তারপর বাকিটা তারাই সেট করে। এইতো সেদিন এক পরিচালক আড্ডা দিতে দিতে বলছিলো ‘প্রযোজকরা গল্প চায় না। নায়িকা কাকে নিব তা আগে জানতে চায়। তারপর তার মতামত। সে কোন নায়িকাকে তার নাটকে চায়। সেখান থেকে পরিচালকের গল্প ভাবতে হবে। নায়িকা যেই হোক, আমার ম্যানেজ করতে হবে। তারপর হবে কাজ। যেন আমি একজন মধ্যস্থতাকারী।’
 
প্রশ্ন হলো সেই নাটক কি টেলিভিশনে প্রচার হয়? ‘সেই দায়িত্ব প্রযোজকের। নাটক প্রচার হতে হবে কে বলছে? আর প্রচারও হয়ে যায়। যদি চ্যানেলের কর্তাব্যক্তির পরিচিত হওয়া যায়।’

কীসের কী ? কোন নেশায় মিডিয়ায় এই প্রযোজকদের আমদানী। তখন বিপাকে পড়ে নিয়মিত প্রযোজকরা। মৌসুমী প্রযোজকের অর্থের কাছে হেরে যায়।
 
দেশে টেলিভিশন প্রযোজকদের সংগঠন আর নীতিমালা থাকলেও নেই কোন প্রয়োগ। যে যেভাবে পারছে মিডিয়াতে আসছে। তার ইচ্ছা পূরণ করছে, চলে যাচ্ছে। যা হচ্ছে, প্রতিনিয়ত টেলিভিশন মাধ্যম কলুষিত হচ্ছে।


বাংলা ইনসাইডার/ এমআরএইচ