ঢাকা, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২০, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Bangla Insider

ঈদের পর বিএনপির রাজনীতি

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৭ জুন ২০১৭ মঙ্গলবার, ০৫:০২ পিএম
ঈদের পর বিএনপির রাজনীতি

ঈদ শেষ হতেই একাদশ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সরগরম হতে চলছে রাজনৈতিক দলগুলো।  এবার নির্বাচনের বড় চমক, এতে অংশ নিচ্ছে বিএনপি।  আর এ জন্য বেশ ভালোই তোরজোর শুরু করেছে দলটি।  দলের চেয়ারপরসন খালেদা জিয়া শীঘ্রই নির্বাচনী রূপরেখা ঘোষণা করবেন। তবে তা লন্ডনে তার বড় ছেলে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর। 

কদিন বাদেই পাড়ি জমাচ্ছেন খালেদা জিয়া।  ছেলের সঙ্গে ঈদ কাটাতে না পারলেও ঈদ পরবর্তী সময়টা প্রিয়জনদের সঙ্গে কাটাবেন তিনি। সেখানেই তারেক রহমানের সঙ্গে শলাপরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নেবেন কীভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিবেন।  

গত ১৮ নভেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসন নিরপেক্ষ ইসি গঠনের প্রস্তাব উপস্থাপন করলেও সহায়ক সরকারের রূপরেখা এখনো দেননি।  যথাসময়ে ওই প্রস্তাব দেওয়া হবে বলে ওই সময় জানান তিনি।  এখন এই সময় প্রায় সন্নিকটেই।  লন্ডন থেকে ফিরে এই রূপরেখা আসছে।

এছাড়া রাষ্ট্রের এককেন্দ্রিক চরিত্র অক্ষুন্ন রেখে বিদ্যমান সংসদীয় ব্যবস্থা সংস্কারের অংশ হিসেবে বিভিন্ন সম্প্রদায়, প্রান্তিক গোষ্ঠী ও পেশার জ্ঞানীগুণী ও মেধাবীদের সমন্বয়ে জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠা করা হবে বলেও বিএনপির ভিশন-২০৩০ এ  উল্লেখ করা হয়েছিল।  আর সে হিসেবেই নির্বাচনের দিকে এগুতে পা বাড়িয়েছে খালেদা জিয়ার দল।  ক্ষমতায় আসলে বিএনপি জাতীয় সংসদকে দ্বিকক্ষ বিশিষ্ট করবে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর একক ক্ষমতা নিরসনকল্পে প্রজাতন্ত্রের নির্বাহী ক্ষমতায় ভারসাম্য আনা হবে।  রাষ্ট্র্রের এক কেন্দ্রীক ক্ষমতা দূর করতে সংসদে উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠা করা হবে।  এদিকে, ক্ষমতায় আসলে বিএনপি সেনাবাহিনীতে আরও শক্তিশালী করে মাঠে নামাতে চায়।  আর এসব কিছু চূড়ান্ত হবে খালেদা জিয়ার লন্ডন সফরের পর। 

এটা নিশ্চিত যে বিএনপি এবার নির্বাচন করেই ছাড়বে। এজন্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য তিন ক্যাটাগরিতে প্রার্থীর মনোনয়ন চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি।  ৩০০ আসনের মধ্যে ২০০ তে পুরোনো এবং বাকি ১০০ আসনে নতুন মুখ বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা আছে।  তবে এ সিদ্ধান্ত এখন চূড়ান্ত করার সময় করতে পারে নি। 

এদিকে, এবার বিএনপির সুরেরও কিছুটা পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।  জালাও পোড়াও আন্দোলন থেকে পিছু হেঁটে  শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করবে বলে শোনা গেছে।  বিএনপি মনে করছে, রাজপথের আন্দোলন সরকারকে খুব একটা চাপে ফেলা যাবে না। তাই অন্য পথ বেছে নিয়েছে তারা। আর এ জন্যই আন্তর্জাতিক অঙনে সরকারকে একা করে ফেলতে ছরি ঘুরানোর চেষ্টায় মশগুল দলের নেতাকর্মীরা। এ লক্ষ্যেই প্রতিবেশি দেশ ও কূটনীতিদের সঙ্গে ভালো খাতির রাখছে বিএনপি।  এছাড়া খালেদা জিয়ার বাড়িতে মিটিং তো হচ্ছেই কয়েকদিন পর পর।  এমন চিন্তা ভাবনায় কতটা সাফল্য পায় সেটা অবশ্যই দেখার বিষয়।

আসন্ন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য বিএনপির প্রস্তুতির আরেক কারণ হলো চেয়ারপারসনসহ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে থাকা বিভিন্ন মামলা হতে মুক্তির সনদ পাওয়া আর কি।  নির্বাচনে গেলে অনেক মামলা থেকে রেহাই পাবে এই দল বলে আশা তাদের।

কিন্তু যত যাই হোক, আর যাই করুক সব কিছুর বাস্তবায়ন দেখা যাবে ঈদের পর খালেদা জিয়ার লন্ডন সফর শেষে।  ছেলের সঙ্গে কলকাঠি নেড়ে কী বার্তা নিয়ে আসেন বিএনপির চেয়ারপারসন সেটাই এখন আকর্ষনীয় বিষয় বটে।

বাংলা ইনসাইডার/টিআর