ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২০, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Bangla Insider

বিচ্ছেদ সংকেত

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: ২১ জুলাই ২০১৭ শুক্রবার, ০৪:০৫ পিএম
বিচ্ছেদ সংকেত

ফেসবুকের দেয়াল ছেয়ে গেছে তাহসান-মিথিলার বিচ্ছেদ সংবাদে। তাই দেখে আপনিও হয়তো আফসোস করছেন। সম্পর্ক ব্যপারটিই এমন। সে যারই হোক না কেন, বিচ্ছেদ সবসময়ই হয় দুঃখের। সম্পর্ক গড়তে যতটা না সময় লাগে, তার চেয়ে খুব অল্প সময়েই ভেঙ্গে যেতে পারে।
কে বলবে আপনি নিজেই হয়তো আপনার নড়বড়ে সম্পর্কের চোখ ফাঁকি দিতেই নজর রাখছেন এইখানে।

যে সুন্দর সম্পর্কটি আজ আপনি তিলে তিলে গড়ে তুলছেন তা হঠাৎই ভেঙ্গে যাক তা নিশ্চয় আপনি চাইবেন না। সব সম্পর্কই ভেঙ্গে যাওয়ার আগে কিছু সংকেত দিয়ে থাকে। যেমনটি হয়ে থাকে ঝড় বয়ে যাওয়ার আগে। সম্পর্কের হারিয়ে যাওয়া মাধুর্য্য ফিরে পেতে শান্ত সেই সংকেতগুলোকে বুঝতে হবে, সমস্যাগুলো সমাধানে চেষ্টা করতে হবে।

মানুষ আমরা ভিন্ন, তাই প্রতিটি সম্পর্কেও আছে ভিন্নতা। এজন্য অন্যের সম্পর্কের সঙ্গে তুলনা করে নয়, নিজের পরিস্থিতিকে মাথায় রেখে নিজেদের সমস্যাগুলোকে খুঁজতে হবে।

আগ্রহ

সম্পর্কে চির ধরলে সবার আগে কমতে শুরু করে অপরের প্রতি আগ্রহ। কি চলছে সঙ্গীর জীবনে তা জানতে আজ আপনি উদাসীন। শুরুতে আপনি হয়তো এই পরিবর্তনকে প্রাইভেসির নাম দেবেন। কিন্তু ধীরে ধীরে তা গা সহা হয়ে যাবে এবং এক সময় ভুলতে হয়তো শুরু করবেন সঙ্গীর অস্তিত্বও।

প্রাধান্য

সব সম্পর্কের শুরুতে উপচে পরা প্রাধান্য, সময়ের তাগিদে দায়িত্বের কোঠায় বিভক্ত হতেই পারে। হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে ভালবাসার মানুষের অপছন্দকে একেবারে উপেক্ষা করা বা তার মতামতের একেবারে তোয়াক্কা না করা কিন্তু তার প্রতি আপনার গুরুত্বহীনতার প্রমাণ হতে পারে।

একইভাবে বিষয়টি তার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

অযুহাত

সঙ্গীকে এড়িয়ে চলতে প্রথম দিকে আপনি হয়তো দেখাবেন নানান অযুহাত। সময়ের পরিক্রমায় তা হয়ে উঠবে আপনাদের বাস্তবতা। ফলে একসঙ্গে মজা করা, সময় কাটানো, শেয়ার করা আর হয়ে উঠবে না। তখন আর আপনি যেমন অজুহাত দেখাবেন না, তেমনি সঙ্গীও আপনাকে প্রশ্ন করবে না। আপনাদের মতই স্তব্ধ হয়ে যাবে সম্পর্কটি।

আক্রমণাত্মক

প্রতি কথায় সঙ্গীকে দোষারোপ করা, ছোট ছোট বিষয়ে তার উপর চিৎকার করা, তাকে ছোট বা অপমান করা। এর মানে হল সঙ্গীর প্রতি আপনার অসম্মান, আক্রমণাত্মক ব্যবহার সম্পর্কটির প্রতি আপনার অনীহার প্রকাশ করছে।

নীরবতা

ভালোবাসার মানুষটির কোন কথায় আপনার কোন ধরনের উত্তর নেই। তার কোন কিছুতে আপনার খারাপ লাগাগুলোকে প্রকাশ করছেন না। এমন কি কেঁদে কেঁদে বালিশ ভেজালেও তাকে অভিযোগ পর্যন্ত করছেন না। ভাবখানা এমন যেন কোন কিছুতেই আপনার কিছু যায় আসে না। খুবই মারাত্মক সংকেত। আপনার নীরবতা বলে দিচ্ছে আপনার হাল ছেড়ে দেবার গল্প। আশা যদি এতোটুকুও থেকে থাকে, থাকলে আপনি প্রশ্ন করতেন, কখনো বা অভিযোগ করতেন অধিকারের সুরে।

সম্পর্কের পরিবর্তনগুলো ক্ষুদ্র হলেও তা এড়িয়ে যাবে না আপনার নজর, আপনার সঙ্গীর নজর। যতক্ষণ পর্যন্ত ছোট দুরত্বকে মনে হতে থাকবে হাজার মাইলের, বুঝতে হবে ভালোবাসাটুকু আজও বেঁচে আছে। বেঁচে আছে একসঙ্গে থাকার ইচ্ছে। আর যদি ভালোবাসা খানিকটা কম মনে হয়? ভয় নেই, সযত্নে আবার ছুয়ে দিন সম্পর্কের মরিচা পড়া তারগুলো। দেখবেন ভালোবাসা ঠিকই ফিরে পেতে শুরু করেছে হারানো সুর।

বাংলা ইনসাইডার/এমএ/টিআর