ঢাকা, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২০, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Bangla Insider

তারেকের মিনি ক্যাবিনেট

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২০ জুলাই ২০১৭ বৃহস্পতিবার, ০৯:৫৮ পিএম
তারেকের মিনি ক্যাবিনেট

২০০২ সালের ডিসেম্বর। সচিবালয়ে যোগাযোগমন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার কক্ষ। বিশ্বব্যাংকের আবাসিক প্রতিনিধি সহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন মন্ত্রী। বিশ্বব্যাংকের আবাসিক প্রতিনিধি প্রথমেই ধন্যবাদ জানালেন মন্ত্রীকে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চার লেনের টেন্ডার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য। টেন্ডার বাছাইও ভালোভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিক ভাবে এখন ফাইল অনুমোদন দেবে। তারপর শুরু হবে বাকি আনুষ্ঠানিকতা। মন্ত্রী বৈঠকে জানালেন, তিনি ইতিমধ্যে সচিবকে নির্দেশ দিয়েছেন। দুই একদিনের মধ্যেই ফাইল তাঁর টেবিলে আসবে। চা চক্রের পর বিশ্বব্যাংক প্রতিনিধিদল বিদায় নিলো। ব্যারিস্টার হুদা ইন্টারকমে ডাকলেন সচিবকে। ফাইলের খবর জানতে চাইলেন। সচিব জানালেন ফাইল অনুমোদন দিয়ে তিনি প্রতিমন্ত্রীর কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন। প্রতিমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ। মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রীকে ইন্টারকম করলেন, কেউ ফোন ধরল না। মোবাইলে প্রতিমন্ত্রীকে চেষ্টা করলেন পেলেন না। সন্ধ্যায় ব্যারিস্টার হুদার ফোনে প্রতিমন্ত্রীর ফোন। ব্যারিস্টার হুদা ঢাকা-চট্টগ্রাম চার লেনের ফাইলটা ছেড়েছেন কিনা জানতে চাইলেন। উত্তরে প্রতিমন্ত্রী বললেন, ফাইলে সমস্যা আছে। মন্ত্রীতো আক্কেল গুড়ুম। টেন্ডার কমিটি যাঁদের কার্যাদেশ দেওয়ার সুপারিশ করেছিল, তাঁরা গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। মামুন সংকেত না দেওয়া পর্যন্ত প্রতিমন্ত্রী ফাইল ছাড়বে না। একমাস এনিয়ে টানাপোড়েন চলল। অবশেষে বিশ্বব্যাংক প্রকল্প থেকে সরে আসার ঘোষণা দিলো, টেন্ডারও বাতিল হলো।

২০০১ থেকে বিএনপি-জামাত জোট সরকারের আমলে এরকম ঘটনা ভুরিভুরি। প্রত্যেক মন্ত্রণালয়ে একজন পূর্ণমন্ত্রী থাকতেন বটে, কিন্তু সিদ্ধান্ত নিতেন প্রতিমন্ত্রী। আর এই সব প্রতিমন্ত্রী  ছিলেন তারেক রহমানের নিজস্ব লোক। প্রতিটি ফাইল প্রতিমন্ত্রীর কাছে গেলেই শুরু হতো তাঁদের তৎপরতা। টেন্ডার কিংবা ব্যবসা সংক্রান্ত ফাইল হলে, মামুনের সম্মতি লাগতো, অন্য বিষয়ে সরাসরি তারেক সিদ্ধান্ত নিতেন। মন্ত্রীদের বলে দেওয়া ছিল, প্রতিমন্ত্রীর সিদ্ধান্তেই তাঁরা যেন স্বাক্ষর করেন। মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দ্বন্দ্বে তো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এয়ার ভাইস মাশাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী সরে যেতে বাধ্য হন। শিক্ষামন্ত্রী ওসমান ফারুক তো এক রকম ওএসডি মন্ত্রী হয়েই দিন কাটান। প্রতিমন্ত্রীদের নিয়ে নিয়মিত ক্যাবিনেট বৈঠক হতো হাওয়া ভবনে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করতেন তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব ছিলেন দুজন একজন হারিস চৌধুরী অন্যজন মোসাদ্দেক আলী ফালু। এর মধ্যে হারিছ চৌধুরী ছিলেন তারেক রহমানের লোক। তার প্রধান কাজ ছিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তারেক রহমানের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা।

এভাবেই আস্তে আস্তে বাংলাদেশে দ্বৈত শাসন ব্যবস্থা চালু হয়ে যায়। বিএনপির কর্মীরাও বুঝতে পারে মন্ত্রীদের কাছে গিয়ে লাভ নেই। সব ক্ষমতা প্রতিমন্ত্রীদেরও। এনিয়ে ক্ষোভ-বিক্ষোভ দেখা দিলো মন্ত্রীদের মধ্যে। মন্ত্রীরা নালিশ করেন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে। বেগম জিয়া বিষয়টি বলেন বড় ছেলে তারেক রহমানকে। সাতদিনের মধ্যে তারেক দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের বৈঠক ডাকেন। একথা সেকথার পর তারেক বলেন ‘সিনিয়রদের অনেকেই জুনিয়রদের সহ্য হচ্ছে না। যারা সহ্য করতে পারছেন না, তার এখন পদত্যাগ করবেন। তারেকের নির্দেশে সব মন্ত্রীদের সাদা কাগজ এবং কলম দেওয়া হয়’। মন্ত্রীরা বুঝতে পারেন অবস্থা বেগতিক। তারা সবাই দু:খ প্রকাশ করেন। বৈঠক শেষ। এরপর প্রতিমন্ত্রী এবং মন্ত্রীরা ‘মিলে মিশে’ কাজ শুরু করেন, তারেকের আজ্ঞাবহ হিসেবে।


বাংলা ইনসাইডার

বিষয়: বিএনপি