ঢাকা, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২০, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Bangla Insider

বহাল তবিয়তে রেইনট্রি ও এর মালিক

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ২০ জুলাই ২০১৭ বৃহস্পতিবার, ১২:২৭ পিএম
বহাল তবিয়তে রেইনট্রি ও এর মালিক

হজ বিষয়ে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক একটি সংবাদ সম্মেলন। সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য দিচ্ছেন ধর্মমন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান। ওই সংবাদ সম্মেলনে একজনকে দেখে গণমাধ্যমের অনেকেই অবাক। তাঁদের মতোই অবাক হয়েছেন টিভিতে ওই সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবেদনের দর্শকরা। অবাক করা ওই ব্যক্তিটি হলেন সংসদ সদস্য বজলুল হক হারুন।

রাজাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ঝালকাঠি-১ আসনের সংসদ সদস্য বি এইচ হারুনের আরেক পরিচয় তিনি বনানীর বিতর্কিত রেইনট্রি হোটেলের মালিক, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী নিপীড়নের শিকার হয়। দেশজুড়ে আলোচিত ওই ঘটনাটি ঘটে হোটেল চালুর আগেই। আর এতে হোটেলের মালিকপক্ষের সংশ্লিষ্টতা ও গাফিলতির অভিযোগও উঠেছে। ঘটনার কিছুদিন পরেই ওই হোটেল থেকে উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ, তবে চালু না হওয়া হোটেলটিতে মদের লাইসেন্সও ছিল না।

এমন হোটেল ব্যবাসায়ী ও অবৈধভাবে বি এইচ হারুন কেন হজ বিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে। কারণ তিনি যে এখনো ধর্ম মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি। এখন প্রশ্ন ওঠে এখনো কীভাবে এমন কমিটির সভাপতি তিনি থাকেন? আর হজের মতো পবিত্র কাজ পালন বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়ায় তাঁর ভূমিকাই বা কেমন হবে?

চলতি বছরের ২৮ মার্চ বনানীর রেইনট্রিতে হোটেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই তরুণী নিপীড়ন মামলার পাঁচ আসামিকেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে শাফাত আহমেদ ও তার বন্ধু সাদমান সাকিফ ইতিমধ্যেই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। কিন্তু এই ঘটনার এতদিন পরেও যে স্থানে এই ঘটনাটি ঘটল সেই রেইনট্রি হোটেল আছে বহাল তবিয়তে। একইভাবে ঘটনার কোনো প্রভাবই পড়েনি এর মালিক বি এইচ হারুনের ওপর।

রেইনট্রির মালিক বি এইচ হারুন হলেও এর চেয়ারম্যান তাঁর বড় ছেলে নাহিয়ান হারুন। হোটেলের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেজো ছেলে আদনান হারুন এবং পরিচালক ছোট ছেলে মাহির হারুন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, নারী নিপীড়নের ঘটনায় মালিক পক্ষের সংশ্লিষ্টতার কথা। বি এইচ হারুনের ছেলে মাহির হারুন নিপীড়নকারী শাফাতের বন্ধু। সে কারণেই শাফাতরা এতকিছু করলেও হোটেল কর্তৃপক্ষ সেই রাতে একবারের জন্যও এসে খোঁজ নেয়নি। আর মাহিরই সেদিন জন্মদিন উপলক্ষে কেক নিয়ে এসেছিল। তাই এই ঘটনাটি ঘটার পেছনে মালিকের দায় কোনোভাবেই এড়ানো যাবে না।

কিন্তু ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত অন্যদের আটক করা হলেও রেইনট্রি হোটলের মালিক কেন ধরা ছোঁয়ার বাইরে? বি এইচ হারুন গণমাধ্যমে দাবি করেন, এই হোটেলের দায়িত্বে তাঁর তিন ছেলে। হোটেলের সঙ্গে তাঁর সবধরনের সম্পর্কও নাকচ করেছেন। কিন্তু হোটেলটির কর্মকর্তারা স্পষ্ট বলেছেন হোটেলটির মালিক হারুন। আবাসিক এলাকায় হোটেলটি নির্মাণের পর এর বৈধতা পেতেও মাঠেও নেমেছিলেন তিনি।

নিপীড়িত দুই তরুণীর একজনের মতে, তাঁদের ওই হোটেলে নিয়ে যে নিপীড়ন করা হবে তা আগে থেকেই হয়তো পরিকল্পনা করা ছিল। যে কারণে রাতে তাঁরা রুমের মধ্যে আর্তনাদ করলেও হোটেলের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারি সেখানে যাননি। সকালে তাঁদের যখন বের করে দেওয়া হয় তখনো তাঁরা কাঁদতে কাঁদতে হোটেল থেকে নামছিলেন। কিন্তু তখনো হোটেলের কেউ জিজ্ঞেস করেননি কী হয়েছে। নিপীড়িত ওই তরুণী বলেন, তখনই মনে হয়েছিল তাঁদের নিপীড়নের বিষয়টি হোটেল কর্তৃপক্ষও জানে। যে কারণে তারা সবকিছুই এড়িয়ে যায়। একটি হোটেল চালুর আগেই এত ঘটনা ঘটে যাওয়ার পেছনে অবশ্যই হোটেল মালিকের দায় রয়েছে। কিন্তু বি এইচ হারুনে ক্ষমতা কতোটা যে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না?
 
আইনের শাসনকে সবার জন্য সমান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে গেলে অবশ্যই কোনো অপরাধের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তাই বনানী ঘটনায় নিপীড়নকারীদের যেমন বিচার করতে হবে, তেমনি বিচার করতে হবে সংশ্লিষ্টতায় অভিযুক্ত রেইনট্রি হোটেলের মালিকপক্ষকে।


বাংলা ইনসাইডার/এসএম