ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২০, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Bangla Insider

নগরপিতা সমীপে…

জাহিদ আব্দুল্লাহ
প্রকাশিত: ১৫ জুলাই ২০১৭ শনিবার, ০৭:০৯ পিএম
নগরপিতা সমীপে…

ঢাকাবাসীর অতি ‘শ্রদ্ধাভাজন’ নগরের একাংশের পিতা আনিসুল হক, আপনি বরাবরই সম্মানের আসনে ছিলেন। তবে অতি সম্প্রতি ‘মশারি খাটানো বিষয়ক’ মন্তব্য করে সেই আসন থেকে ছিটকে পড়েছেন। নগরবাসীর কাছে ক্ষমা চাইলেও ওই আসনে আপনাকে বসাতে এখন দ্বিতীয়বার ভাববেন অনেকে।

জনাব আনিসুল হক, গতকাল শুক্রবার সংবাদ সম্মেলনে আপনি বলেছেন, মানুষের ঘরে ভেতর যেয়ে মশারি খাটাতে পারবেন না। ছাদের চৌবাচ্চায় ওষুধ দিতেও পারবেন না। পারবেন না মশা মারতে।

‘প্রিয়’ নগরপিতা মানুষের ঘরের ভেতরে যাওয়ার কথাও আপনাকে বলা হয়নি। নগরবাসী চায় মশা দূরীকরণে দুই সিটি করপোরেশনের দৃশ্যমান কার্যক্রম। নগরের অনেক এলাকায়ই মশা নিধনে সিটি করপোরেশনের নূন্যতম কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। আর ঘরে ঘরে যাওয়া সম্ভব নয় কথাটিও ভুল। ভোটের সময় প্রচারণায় জন্য আপনি ওই অসম্ভব কাজটিই করেছিলেন। তবে এখন কেন জনসচেতনায় এমন করা যাবে না।

জনাব আনিসুল হক, সংবাদ সম্মেলনে আপনি বলেছেন, চিকুনগুনিয়া মহামারি হোক আর যাই হোক, এজন্য সিটি করপোরেশন কোনোভাবেই দায়ী নয়। দায় এড়ানোর এমন বক্তব্য নগরববাসী আপনার কাছ থেকে আশা করে না। আর একই সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহেদ মালেক কিন্তু মশা নিধনে ব্যর্থতার জন্য সিটি করপোরেশনকেই দায়ী করেন।

সংবাদ সম্মেলন আপনি মশা নিধনের জন্য আগে থেকে জানানো হয়নি বলে মন্তব্য করেন। তবে আমরা গণমাধ্যমে গত কয়েক মাস ধরেই মশাবাহী রোগের বড় আশঙ্কা, এখনই উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন-এমন সংবাদ কীভাবে পাচ্ছি?

ডিএনসিসির উদ্যোগে গুলশান, বনানী, বাড়িধারা আরও সুন্দর হয়েছে। এলাকাগুলোতে সিটি করপোরেশনে মশার ওষুধ ছিটানো থেকে নানা কর্মকাণ্ড হরহামেশাই চোখে পড়ে। সড়কের মাঝখানের সৌন্ধর্যবর্ধনও বেশ নান্দনিক। তবে সব কর্মকাণ্ডই কেন এই এলাকাগুলোতে। ‘শ্রদ্ধেয়’ ডিএনসিসি মেয়র আপনি শুধু গুলশান, বনানী, বাড়িধারার মেয়র নন। মিরপুর, মোহাম্মদপুর, মাহাখালী, কল্যাণপুর, শ্যামলী, বাড্ডা, কাজীপাড়া, শেওরাপাড়া, কাফরুলও কিন্তু আপনার এলাকা। এসব এলাকার বাসিন্দারাও আশা করে আপনাকে ভোট দিয়েছে। কিন্তু গুলশান বনানীর তুলনায় এসব এলাকার মানুষ কতটা উন্নয়ন দেখতে পাচ্ছে। কেন এমন বিমাতাসুলভ আচরণ?

বাংলা ইনসাইডার/জেডএ