ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২০, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Bangla Insider

ত্রাণ তৎপরতায় নারী-শিশুর দিকে নজর নেই

রেজওয়ানা আখি
প্রকাশিত: ১৫ জুলাই ২০১৭ শনিবার, ১২:৪২ পিএম
ত্রাণ তৎপরতায় নারী-শিশুর দিকে নজর নেই

বন্যা কিংবা যে কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় নারী ও শিশু। এর মধ্যে সন্তানসম্ভবা ও স্তন্যদানকারী মা এবং তিন বছরের কম বয়সী শিশুরা চরম ঝুঁকিতে থাকে।

বর্তমানে বন্যাকবলিত ১৭ জেলার প্রায় ২০ লাখ মানুষ পানিবন্দি, এদের মাঝে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নারী এবং শিশু। সরকার থেকে ত্রাণ গেলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। চিকিৎসক ও সরকারি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, দুর্যোগকবলিত নারী-শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা, দরকারি খাবার ও ওষুধ নিশ্চিত করা খুবই জরুরি। দুর্যোগকবলিতদের মাঝে চালসহ বিভিন্ন ত্রাণসামগ্রী যৎসামান্য বিতরণ করা হলেও নারী- শিশুদের বিষয়টি বরাবরই উপেক্ষিত থাকে।

এ পর্যন্ত বন্যাদূর্গত এলাকায় চাল, গম, চিড়া, শুকনো খাবার, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, নগদ অর্থ দেওয়া হলেও, এখনো ত্রাণ ব্যবস্থায় রয়েছে সামঞ্জস্যহীনতা। বন্যাদুর্গত এলাকাগুলোতে শিশুখাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন স্থানে দরিদ্র পরিবারের সঙ্গে আশ্রয় নেওয়া শিশুদের খাবার দিতে পারছেন মা-বাবারা। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও দুর্গত এলাকার শিশুদের জন্য কোনো খাবারের ব্যবস্থা করা হয়নি।

বন্যায় প্লাবিত গ্রামের পর গ্রাম বড়দের সঙ্গে শিশুরাও প্রায় না খেয়ে রয়েছে। বানভাসি বেশির ভাগ মানুষ দরিদ্র। ফলে অন্য কোনো স্থান থেকে শিশুদের জন্য খাবার কিনেও আনতে পারছেন না তাঁরা। ফলে শিশুরা অনেকটাই অর্ধহার–অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় ত্রাণের চাল বিতরণ করা হলেও শিশুদের জন্য কোনো খাবার বিতরণ করা হয়নি এখনো।

বাংলাদেশের নারীর সংখ্যা ৭কোটি ১০ লাখ ৬৪ হাজার। আর বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতেও নারীর সংখ্যাই বেশি, তবুও তাঁদের সুরক্ষার জন্য সুনির্দিষ্ট কোনো ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি। জানা গেছে, গত ৩ থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত বন্যাকবলিত ১৩ জেলায় ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে চার হাজার মেট্রিক টন চাল, এক কোটি ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ এবং ৯ ধরনের খাবারের সমন্বয়ে সাড়ে ১৮ হাজার ৫০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে এসব খাবারের মাঝে নেই শিশু খাদ্য, নারীদের বিশেষ প্রয়োজনের দিকেও নজর দেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক এনজিও সেভ দ্য চিলড্রেনের সিনিয়র ম্যানেজার সৈয়দ মতিউল আহসান বাংলা ইনসাইডারকে বলেন, ‘দেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ নতুন কিছু না, তবুও ত্রাণ ব্যবস্থাপনায় কোনো সময়ই নারী ও শিশুদের জন্য বিশেষ প্যাকেজ রাখা হয় না। বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে দেখা গেছে নারী, পুরুষ, শিশুদের এক সঙ্গে উচু জায়গায় রাখা হয়েছে, এতে তাঁদের সুরক্ষার কথা ভাবা হয় নি। এসময় শিশুরা পাচারের শিকার হতে পারে, নারীরা নিপীড়নের শিকার হতে পারে, কিন্তু এগুলো ভাবা হয় না।’

ত্রাণ বিতরণের ক্ষেত্রে ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে মতিউল আহসান বলেন, ‘বিভিন্ন এনজিও ত্রাণ বিতরণের সময় নারীদের কথা আগে বিবেচনা করে থাকে। ফলে এসময় ত্রাণ আনতে যাওয়া, বহন করার ক্ষেত্রে নারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমাদের ত্রাণ ব্যবস্থাপনা কখনোই নারী ও শিশু বান্ধব না।’
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সুপরিকল্পিত কর্মসুচি না থাকায় সব দুর্যোগকালীন সময় নারী ও শিশুরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকে। আইলা-সিডরের সময়ও নারী-শিশুদের নিরাপত্তার কথা কেউ ভাবেনি, এখনও ভাবা হয় না।


বাংলা ইনসাইডার/ আরএ

বিষয়: বন্যা