ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২০, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Bangla Insider

অনুচ্চারিত বন্ধুত্ব

বিশ্বজুড়ে ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৪ জুলাই ২০১৭ শুক্রবার, ০২:০১ পিএম
অনুচ্চারিত বন্ধুত্ব

ভারতের সর্বদক্ষিণের ছোট একটি দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা। মসলা, রাবার ও চার জন্য উনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীতে শ্রীলঙ্কা বিখ্যাত ছিল। বর্তমানে পর্যটন শিল্প, চা রপ্তানি, পোশাক শিল্প, চাল ও অন্যন্য কৃষিপণ্য দেশটির প্রধান অর্থনৈতিক খাত।

ক্রয়ক্ষমতার ভিত্তিতে জিডিপিতে দক্ষিণ এশিয়ায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে শ্রীলঙ্কা। দারিদ্র্যের হার ৭.৬ শতাংশ, বেকারত্বের হার মাত্র ৪.৯ শতাংশ এবং সাক্ষরতার হার ৯২.৫ শতাংশ। শ্রীলঙ্কার ৯০ শতাংশ বাড়িতে বিদুৎসেবা পৌছে গেছে। ৮৭.৩ শতাংশ মানুষ নিরাপদ পানি পায়। আয়ের ক্ষেত্রে বৈষম্য দেশটিতে দিন দিন কমে যাচ্ছে। টেলিকমিউনিকেশন সেবায় ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ছে। এ খাত থেকে প্রচুর পরিমাণ আয় হয়। দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে মোবাইলে ৪র্থ প্রজন্মের সেবা পাচ্ছে দেশটির জনগণ। মানব উন্নয়নের সূচকেও মালদ্বীপের সঙ্গে শ্রীলঙ্কাও শীর্ষ স্থান ধরে রেখেছে। ২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কার সেনারা বিচ্ছিন্নতাবাদী দল এলটিটিইকে পরাজিত করলে ৩০ বছরের গৃহযুদ্ধের অবসান হয়। এই গৃহযুদ্ধের ক্ষত নিয়েও শ্রীলঙ্কা খুব দ্রুত দাঁড়িয়ে যায়।

দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে বাংলাদেশের সঙ্গে শ্রীলঙ্কার সুন্দর সম্পর্ক রয়েছে। শ্রীলঙ্কায় তামিলদের বিদ্রোহের সময় ভারত বিদ্রোহীদের উসকানি দিত বলে মনে করে দেশটি। তাই যে কোনো আন্তন্তর্জাতিক সম্মেলনে ভারতের থেকে বাংলাদেশকে বেশি সমর্থন দেয় শ্রীলঙ্কা। ভারতের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব থাকায় হাম্বানটোটায় বন্দর নির্মাণে চীনের সহযোগিতা নেয় দেশটি।

শ্রীলঙ্কার সঙ্গে বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে ১৯৭২ সালে। ১৯৭৬ সালে কলম্বোতে বাংলাদেশের হাইকমিশন স্থাপন করা হয়। ১৯৭৯ সালের জুন মাসে ঢাকায় শ্রীলঙ্কার হাইকমিশন স্থাপিত হয়। চট্টগ্রামেও দেশটির কনস্যুলেট রয়েছে। ২০১১ সালে শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ সফর করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৩ সালে শ্রীলঙ্কা সফরে যান।

সম্প্রতি শ্রীলঙ্কার বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপাল সিরিসেনা বাংলাদেশ সফরে আসেন। দুই দেশের মধ্যে দু’টি দ্বিপাক্ষীয় চুক্তি ও ১২টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়। চুক্তিগুলোর মধ্যে উপকূলীয় জাহাজ চলাচল এবং সরকারী কর্মকর্তাদের ভিসা ছাড় অন্যতম। অন্য চুক্তিগুলোর মধ্যে রয়েছে- কৃষি খাতে সহযোগিতা, উচ্চ শিক্ষা, বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, উভয় দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মধ্যে, পররাষ্ট্র সেবা বিষয়ক ইন্সটিটিউট, বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘বিস’ ও শ্রীলঙ্কার এলকেআইআইআরএসএস’র মধ্যে এবং রেডিও, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র বিষয়ে সহযোগিতা বিনিময়।

অর্থনৈতিক বিষয়ে সহযোগিতা ছাড়াও দুদেশের মান নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠান, সংবাদ সংস্থা এবং চট্টগ্রাম বিজিএমইএ ফ্যাশন ইন্সটিটিউট ও শ্রীলঙ্কা টেক্সটাইল ও অ্যাপারেল ইন্সটিটিউটের মধ্যে সহযোগিতা বিষয়ক চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে।

শ্রীলঙ্কা থেকে বাংলাদেশে প্রচুর পরিমাণে ছাত্র আসে। ক্রিকেটের কারণে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত উষ্ণ। বর্তমানে শ্রীলঙ্কা বাংলাদেশের পোশাক ও ব্যাংকিং খাতে বিনিয়োগ করছে। উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ মাত্র ৮ কোটি মার্কিন ডলার। এই বাণিজ্যের পরিমাণ আরও বাড়াতে হবে। কিন্তু মাত্র দুই কোটি সংখ্যার জনগণের দেশে বাণিজ্য বিস্তার করা কঠিন বলে সাংবাদিকদের জানান বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ। শ্রীলঙ্কার বিনিয়োগকারীদের তিনি বাংলাদেশে আসার পরামর্শ দেন।
তিনি আহ্বান করেন, শ্রীলঙ্কার বিনিয়োগকারীরা ১৬ কোটি জনসংখ্যার দেশ বাংলাদেশের ৩ থেকে ৪ কোটি মধ্যবিত্ত ও ধনীদের ভোগ্যপণ্যের চাহিদা পূরণ করতে পারবে। শ্রীলঙ্কা থেকে বিনিয়োগ বাড়ানোর তাগিদও দেন তিনি।

জাতিসংঘ, সার্ক, কমনওয়েলথ, বিমসটেকে, ইন্ডিয়ান ওশান রিম এবং এশিয়া কোঅপারেশন ডায়লগে দুই দেশ একে অপরকে সহযোগিতা সমর্থন করে আসছে। সম্পর্ক ভালো থাকা সত্ত্বেও এ নিয়ে গণমাধ্যমে আলোচনা হয় না। অধিকাংশ ক্ষেত্রে উপেক্ষিত থেকে যায়। দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ বাড়াতে উভয়পক্ষকেই এগিয়ে আসতে হবে। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে ছোট দেশ হওয়ায় দুই দেশের একত্রে আঞ্চলিক সংগঠনগুলোতে ভূমিকা রাখতে হবে। এর জন্য বাংলাদেশকেও কূটনৈতিকভাবে সমঝোতার ভিত্তিতে এগিয়ে আসতে হবে এবং শ্রীলঙ্কার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে কাজ করে যেতে হবে।


বাংলা ইনসাইডার/আরএইচবি


বিষয়: শ্রীলঙ্কা