ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২০, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Bangla Insider

বিদায় ক্ষণজন্মা বেনিংটন

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২১ জুলাই ২০১৭ শুক্রবার, ০১:২০ পিএম
বিদায় ক্ষণজন্মা বেনিংটন

সংগীতের দুনিয়ায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। লস অ্যাঞ্জেলসের পালোস ভার্দোস স্টেটে নিজ বাসভবনে আত্মহত্যা করেছেন লিনকিন পার্ক গায়ক চেস্টার চার্লস বেনিংটন । এসময়ে তার পরিবার শহরের বাইরে থাকার কারণে তিনি একাই ছিলেন বাড়িতে। বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকাল ৯টায়  তাঁর নিজস্ব ফ্ল্যাটে ঝুলন্ত অবস্থায় মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। 

ব্যক্তি জীবনে দু’বার বিয়ে করেছিলেন বেনিংটন। তাঁর রেখে যাওয়া পরিবারে আছে স্ত্রী টালিন্ডা অ্যান বেন্টলি ও ছয় সন্তান।

বেনিংটন ১৯৭৬ সালের ২০ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনাতে জন্মগ্রহণ করেন। ৪১ বছর বয়সী এ গায়কের জীবনটা ছিল বেশ কাঠখড় পোড়ানো। বাবা ছিলেন গোয়েন্দা পুলিশ ও মানার্স। বেনিংটনের ছোটকাল থেকেই সংগীতের প্রতি ছিল গভীর আকর্ষণ।

১১ বছর বয়সেই তার বাবা-মা এর ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। বেনিংটনের দায়িত্ব পান তার বাবা। মূলত এরপর থেকেই বেনিংটন মারিজুয়ানা, মদ, অপিয়াম, কোকেইন, মেটাফেটামিন, এলএস ডি- ইত্যাদিতে আসক্ত হন। আসক্তিটা ছিলো মাত্রাতিরিক্ত।

তাঁর এই আসক্তির আরেকটি কারণ ছিল- তিনি ৭ বছর বয়সেই তার থেকে বয়সের বড় এক ছেলে বন্ধু থেকে নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন। কিন্তু তাকে কেউ সমকামী বলে জানবে সেই ভয়ে কারও কাছে প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকেন। একসময় মাদকের বেড়াজাল ঘিরে ধরেছিল তাকে। সেসময় আত্মহত্যার ভূত মাথায় চেপে বসার ব্যাপার নিয়ে বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে অকপটে বলেছেনও তিনি।

এই সব অশান্তি থেকে বাঁচার জন্য তিনি ছবি আঁকা, কবিতা এবং গান লেখা শুরু করেন। একটা সময় ড্রাগ থেকে মুক্তি মেলে। গান গাওয়াটা তখনই শুরু হয়। শুরুতেই গান থেকে জনপ্রিয়তাটা পাওয়া হয়নি। অর্থের অভাবের জন্য বার্গার কিং চাকরি নেয়। অল্প বয়সে বিয়েটাও সেরে ফেলেছিলেন। মাত্র ২০ বছর বয়সে মনটা হারিয়ে ফেলে সামান্হার চোখে।তখন তার এতই অর্থাভাব ছিলো যে স্ত্রীকে দেওয়ার জন্য একটা রিং কিনতে পারেনি। তাতে কি হবে, দুজনের আঙ্গুলে ট্যাটু একেই সে বিয়েটা হয়েছিলো।

গ্রেডেজ ব্যান্ডে এ জয়েন করে যেটা মূলত আরিজোনা আর আমেরিকায় জনপ্রিয় থাকলেও গ্লোবাল এ্যাচিভম্যান্ট অতটা ভালো ছিলো না। একটা সময়ে এ ব্যান্ডে মন টিকলো না।

যোগ দিলেন ব্যান্ডদল ‘জিরো’তে। এটাই ছিলো লিনকিন পার্কের প্রতিষ্ঠাকালীন নাম। বেনিংটনের যোগ দেয়ার আগে ব্যান্ডের অবস্থা তেমন সুবিধার ছিলো না। আস্তে আস্তে  বিভিন্ন কনসার্ট আর লাইভ শোর মাধ্যমে নামডাক ছড়িয়ে পরে ব্যান্ডের। কিন্তু ব্যান্ডের নামটা পরিবর্তন করতে হয় তাদের আগে অন্য কোন দল এ নাম রেজিস্টার্ড করে ফেলেছে।

তখন ব্যান্ডের সবাই মিলে হাইব্রিড থিওরী নামটা রেখে দেয়। এটাই ছিলো লিনকিন পার্কের সেল্ফ টাইটেলড ইপি । এই নাম রাখার একটা কারণও এটা যে ওদের গান গুলোতে একসঙ্গে র্যাপ, হিপ হপ, রক আর নু মেটালের সংমিশ্রন থাকায় এই নামটা ওদের কাছে পারফেক্ট লাগে। হাইব্রিড থিওরি-র (২০০০) জন্য তারা নূমেটাল ধারার ব্যান্ডের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও সর্বাধিক ব্যবসাসফল ব্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠালাভ করেছে। এই ইপিটাই ১৯৯৯ সালে ওয়ার্নার ব্রসের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হতে সাহায্য করে।

নাম নিয়ে ঝামেলার শেষ হয় না। হাইব্রিড নামটা ব্যবহারের ক্ষেত্রে লিগ্যাল নোটিশ পায়। কারণ ইউকে তে একটা ব্যান্ড ইতোমধ্যে এটা নিয়ে নিয়েছে। দলের নামটা আবার পরিবর্তন করতে হবে। প্রোবিং লেজারস, টেন পিএম স্টোকার, প্লাটিনাম লোটাস ফাউন্ডেশন নামগুলো বাতিল খাতায় রেখে চেস্টার বেনিংটন একটা নাম সাজেস্ট করে সবার কাছে সেটা হলো লিংকন পার্ক। এই নামটা দেয়ার উদ্দেশ্য হলো চেস্টার বেনিংটন যখন প্রাকটিস শেষ করে সান্টামোনিকার বাসায় ফিরতো তখন লিংকন পার্কের সামনে দিয়েই যেতো। কিন্তু লিংকনপার্ক.কম ডোমেইনটা এত মূল্যবান ছিলো যেটা তখন ব্যান্ড মেম্বারদের পক্ষে কেনা অসম্ভব ছিলো। তাই তারা একটু বানানটা ভুল করে লিনকিন পার্ক রেখে দেয়!

লিনকিন পার্ক হলো সর্বকালের সফল অল্টারনেটিভ রক ব্যান্ডগুলোর অন্যতম। এটি গঠন করা হয় ১৯৯৬ সালে। ২০০০ সালে প্রকাশিত তাদের প্রথম অ্যালবাম ‘হাইব্রিড থিওরি’তেছিল ‘ইন দ্য এন্ড’, ‘ওয়ান স্টেপ ক্লোজার’, ‘ক্রলিং’-এর মতো বিখ্যাত গান। ২০০২ সালে এটি গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডে বেস্ট হার্ড রক পারফর্ম্যান্স বিভাগে পুরস্কার জেতে।

রক, মেটাল ও র‌্যাপ নিয়ে নিরীক্ষাধর্মী কাজ করেছে লিনকিন পার্ক। ২০০৪ সালে র‌্যাপার জে-জি’র সঙ্গে ‘কলিশন কোর্স’ অ্যালবামে গান করেছেন তারা। এর ‘নাম্ব/এনকোর’ গানটি২০০৬ সালে গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডে বেস্ট র‌্যাপ/সাং কোলাবোরেশন বিভাগে পুরস্কৃত হয়। তাদের বিখ্যাত গানের তালিকায় আরও আছে ‘ফেইন্ট’। বিশ্বব্যাপী তাদের অ্যালবামগুলোর বিক্রি হয়েছে ৭ কোটি কপিরও বেশি।


বাংলা ইনসাইডার/এমআরএইচ