ঢাকা, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২০, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Bangla Insider

পরিধি বাড়লে লাভ?

তাসনিয়া রহমান
প্রকাশিত: ২০ জুলাই ২০১৭ বৃহস্পতিবার, ০৩:০২ পিএম
পরিধি বাড়লে লাভ?

রাজধানী ঢাকার বর্তমান জনসংখ্যা এক কোটি ৮০ লাখ, যা ২০৩৫ সালে দ্বিগুণ হয়ে তিন কোটি ৫০ লাখ হবে বলে মনে করছে বিশ্বব্যাংক। আর এ জন্য ঢাকার পরিধি বাড়াতে গুরত্ব আরোপ করা হচ্ছে। শুধু ঢাকার পরিধি বাড়লে কি মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ হবে?

বিশ্বব্যাংক থেকে বলা হচ্ছে, ঢাকার পূর্বাঞ্চল পরিকল্পিত নগরায়ণের কথা। কিন্তু বর্তমানে রাজধানীসহ সারাদেশে চলছে গ্যাসের সমস্যা। নতুন বাড়িতে গ্যাস সরবরাহ করতে পারছে না সরকার। কারণ দেশে গ্যাসের সংকট।

দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য পর্যাপ্ত সড়ক প্রয়োজন। কিন্তু নতুন সড়ক তৈরি করার জায়গা কোথায়? আর সড়ক তৈরি হলেও অতিরিক্ত যানবাহনে সেই যানজটই তৈরি হবে।

এছাড়া, বিদ্যুতের একটা বড় ঘাটতি রয়েছে সারাদেশে। নতুন এলাকা ঢাকার সঙ্গে সংযোজন করলে এই বিদ্যুৎ ঘরে ঘরে পৌঁছে দিবে কীভাবে?

মানুষের মৌলিক চাহিদার মূল হলো খাদ্য। রাজধানী ঢাকার মধ্যেই খাদ্য ঘাটতি বিরাজমান সেখানে বাড়তি এলাকার বাড়তি জনগোষ্ঠির জন্য খাদ্য চাহিদা পূরণ কি সম্ভব?

ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পরিধি তো বাড়ানো হয়েছে কিন্তু তাতে কী সুফল পাচ্ছেন এলাকার মানুষজন। নতুন নতুন রাস্তা, ফ্লাইওভার তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু লাভ? মালিবাগ মৌচাকে ফ্লাইওভার তৈরি করা হলেও যানজটে বিরক্ত মানুষ। তারপর যানবহনও বাড়ছে কিন্তু তাতে যানজট কমছে না।

ঢাকার এই অধিক জনসংখ্যার কারণে পরিবেশ ও আর্থ সামাজিক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে, এর পরিধি বাড়লে কি তা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব? ঢাকার অন্যতম সমস্যা আবাসন, পানি সংকট, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সমস্যা, জলাবদ্ধতা ও নগর বন্যা, সড়ক দূর্ঘটনা, যখন তখন আগুন এবং অপর্যাপ্ত অগ্নি নিয়ন্ত্রন ব্যবস্থা, দূর্বল ও অপরিকল্পিত বসতি নির্মাণ, মানহীন নির্মাণ সামগ্রীর ব্যবহার, বেকারত্ব, বিল্ডিং এ ধস্ ও ফাটল, পরিবহন সল্পতা, নিম্নমানের পরিবহন ব্যবস্থা, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট, নগর জুড়ে রাস্তার উভয় পাশে বৈদ্যুতিক তার, ক্যাবল টিভি ও ইন্টারনেটের জালাকৃতির তারজট, মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও মাদকের সহজ প্রাপ্যতা, ইয়াবা ও ফেন্সিডিলের প্রতি তরুণ সমাজের আসক্তি, নিত্য নৈমিত্তিক অপহরণ ও ছিনতাইয়ের ঘটনা, সঠিক বিনোদনের অভাব, হরতাল, ধর্মঘট কিংবা দাবি আদায়ে গাড়ি ও দোকানপাট ভাঙচুর, খাদ্যে ভেজাল, ফলমুলে কার্বাইড, ফরমালিন যুক্ত মাছ, আবাসিক এলাকার অনাবাসিক ব্যবহার, অবৈধ বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ, নিয়ন্ত্রণ ও পরিদর্শন কর্তৃপক্ষের লোকবলের অভাব, বস্তিবাসীদের নানা সমস্যা, উচ্চ জন্মহার, শিক্ষা ও চিকিৎসা সুবিধার অভাব, সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা ও সর্বোপরি রাজনৈতিক অস্থিরতা আমাদের ঢাকার নগর জীবনকে নরক জীবনে রূপান্তরিত করছে।

এই সব সমস্যা কী পূর্বাঞ্চলে শহারায়ন হলে থাকবে না? নাকি আরও তীব্র হবে?

বুধবার ঢাকায় একটি পাঁচতারকা হোটেলে উচ্চ পর্যায়ের এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিশ্বব্যাংক ‘টুওয়াডর্স গ্রেট ঢাকা: এ নিউ আরবান ডেভলপমেন্ট প্যারডাইম ইস্টওয়ার্ড’ বিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের শহুরে জনসংখ্যার ৩৬ শতাংশ বৃহত্তর ঢাকায় বাস করে, তাই ঢাকা এখন হয়ে উঠেছে বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলোর অন্যতম। ৫০তম জন্ম বার্ষিকীর আগে উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার লক্ষ্য অর্জন করতে হলে বাংলাদেশকে অব্যশই ঢাকার শহরায়ন সম্প্রসারণের যথাযথ ব্যবস্থাপনা করতে হবে। এসব পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে ঢাকার পূর্বাঞ্চলের পূর্ণ সুবিধাকে কাজে লাগানো।

বাংলা ইনসাইডার/টিআর

বিষয়: জাতীয়