ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২০, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Bangla Insider

বিশ্বব্যাপী বিদ্যুৎ

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৪ জুলাই ২০১৭ শুক্রবার, ১০:০২ এএম
বিশ্বব্যাপী বিদ্যুৎ

বিদ্যুৎ আছে বলেই সভ্যতার চাকা ঘুরছে। বিশ্ব চলছে অবিরাম পথে। তবে এই বিদ্যুৎ উৎপাদনের জ্বালানি তেল, গ্যাস বা খনিজ কয়লা অফুরন্ত নয়। যা অদূরে না হলেও সুদূর ভবিষ্যতে তো ইতি ঘটবেই। সুদূর ভবিষ্যতেও নিঃশেষ হবে না এমন আশঙ্কা নেই পারমাণবিক শক্তিচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র। পারামণবিক শক্তি অফুরন্ত। তবে এর বেশ ঝুঁকি রয়েছে। তৃতীয় বিশ্বের দরিদ্র দেশগুলোতে বিদ্যুতের ব্যাপক ঘাটতি এবং পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের স্বপ্ন থাকলেও প্রযুক্তি ও অর্থ নেই।

বাংলাদেশে এখন গ্যাসের উৎপাদন ২৭৩ কোটি ঘনফুট। এরমধ্যে সাড়ে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস লাগে ১২০ কোটি ঘনফুট, যা মোট উৎপাদনের ৪১ শতাংশ। এ ছাড়া বাসাবাড়িতে ১৪ শতাংশ, ক্যাপটিভ পাওয়ারে ১৭ শতাংশ, সিএনজিতে ৫ শতাংশ, শিল্প ও বাণিজ্যিকে ১৮ শতাংশ এবং সার কারখানায় লাগছে ৭ শতাংশ গ্যাস। কিন্তু এভাবে গ্যাসের মজুদ দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ জন্য কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকার বিশদ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

বর্তমানে ইতালি, জার্মানি সব পারমাণবিক শক্তিকেন্দ্র নিষ্ক্রিয় করছে। অস্ট্রেলিয়ার শুধু গবেষণার জন্য পারমাণবিক চুল্লি রয়েছে। আবার ইউরোপের দেশগুলোর মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ৩০ শতাংশ আসে পারমাণবিক শক্তিচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি ২০১২ সালে ১ লাখ ২ হাজার ১৩৬ মেগাওয়াট পারমাণবিক শক্তি উৎপাদন করে। যার ১৯ শতাংশ ব্যয় করে বিদ্যুৎ উৎপাদনে।

যুক্তরাষ্ট্রে ১৩০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া কোল পাওয়ার প্ল্যান্ট ওই এলাকার ন্যাশনাল পার্কের মাত্র এক কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থিত। ২০১৫ সালে ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার মোট বিদ্যুতের ৯৪ শতাংশ কয়লা থেকে উৎপন্ন হয়েছে। ভিয়েতনামের ১২শ’ মেগাওয়াট ক্ষমতার কুয়াং নিন বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি হ্যালং বে (ইউনেস্কো ঐতিহ্য) এর মাত্র ৬ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

জাপানের ইয়োকোহামার ১২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ইসোগো বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি তাদের আবাসিক এলাকার পাশে অবস্থিত। তাইওয়ানের ৫৫০০ মেগাওয়াটের তাইচুং বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত। জার্মানির ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার জলিং বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও ২০০০ মেগাওয়াটের একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র অ্যামপার নাটুরার বিশেষায়িত সংরক্ষিত এলাকা থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরে অবস্থিত।

এছাড়া জার্মানির ৭৫০ মেগাওয়াটের হেইলব্রোন হ্যাফেন বিদ্যুৎ কেন্দ্র, জার্মানির শহর সংলগ্ন এবং নদীতীরবর্তী স্থানে অবস্থিত। এছাড়া ১৬০০ মেগাওয়াটের ক্রাফটওয়ার্ক-মুরবার্গ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি জার্মানি শহর সংলগ্ন এবং নদীর তীরে। ১৪৬২ মেগাওয়াটের রেইনহফেন ড্যাম্ফক্রাফট বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি জার্মানির শহর সংলগ্ন এবং নদীর তীরবর্তী স্থানে অবস্থিত।

বিশ্বে মোট পারমাণবিক চুল্লির সংখ্যা ৪৪১টি। এ চুল্লি থেকে পারমাণবিক শক্তি উৎপাদিত হয় ৩ লাখ ৬৯ হাজার ১২২ মেগাওয়াট। আরো ২৭টি পারমাণবিক কেন্দ্রে ৬৮টি চুল্লি নির্মাণের পথে রয়েছে এবং ৩৮টি কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে ১১৫টি কেন্দ্র।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) দেওয়া তথ্যমতে, ২০১৩ সালে বিশ্বের ৩১টি দেশে ৪৪১টি পারমাণবিক চু্ল্লি সচল আছে। ২০১২ সালে ১৫টি দেশে ৬৮টি বেসামরিক পরমাণবিক চুল্লির নির্মাণের কাজ চলছিল। এর মধ্যে চীনের ছিল ৩২টি। যুক্তরাষ্ট্রের দুটি। যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে- ২০২০ সালে তাদের আরো দুটি পারমাণবিক বিদুৎকেন্দ্র উৎপাদনে যাবে। তবে আগামী ১০-১৫ বছরের মধ্যে ছোট এবং পুরোনো মিলে কমপক্ষে ১০০ চুল্লি বন্ধ করে দিতে হবে।

সম্প্রতি জাপানে ফুকুশিমা পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে সংঘটিত ভয়াবহ দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অনেকে বাংলাদেশে পারমাণবিক কেন্দ্র স্থাপন না করার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। উল্লেখ্য, অতি শক্তিশালী ভূমিকম্পেও কেন্দ্রটি দুর্ঘটনাকবলিত হয়নি বরং এরপর সংঘটিত সুনামির পানির জোয়ারে কেন্দ্রটির শীতাতপ ব্যবস্থাপনা ভেসে গেলে তাতেই তা দুর্ঘটনাকবলিত হয়। বাংলাদেশের রূপপুর ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকায় অবস্থিত নয়, আর সেখানে সুনামি হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। সেই অর্থে ফুকুশিমার সঙ্গে রূপপুরের তুলনা করা ঠিক নয়। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুর্ঘটনা হওয়া বিরল ঘটনা, যদিও তা হলে ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
১৯৫৪ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নে বিশ্বের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের পর বিশ্বব্যাপী চালু ৪৪০টিরও বেশি কেন্দ্রের মধ্যে আজ পর্যন্ত কেবল তিনটি বড় দুর্ঘটনা ঘটে। প্রতিটি দুর্ঘটনার পরবর্তী সময়ে নির্মিত কেন্দ্রসমূহ আরও সতর্ক নকশা ও ব্যবস্থাপনাসহ তৈরি করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে পারমাণবিক কেন্দ্রের সংখ্যা ১০৪টি, জাপানে ৫৫, ফ্রান্সে ৫৮, রাশিয়ায় ৩২, দক্ষিণ কোরিয়ায় ২১ ও ভারতে ২০টি। ভারতে বর্তমানে আরও চারটি পারমাণবিক কেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে এবং আরও ২০টি নির্মাণ পরিকল্পনার অধীনে আছে।

বাংলা ইনসাইডার/টিআর