ঢাকা, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২০, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Bangla Insider

বিএনপির আগ্রহ নেই রংপুরে

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ২০ জুলাই ২০১৭ বৃহস্পতিবার, ১০:৩২ এএম
বিএনপির আগ্রহ নেই রংপুরে

জাতীয় পার্টি আগামী সংসদ নির্বাচনে কতটা ভালো করবে তাঁর পরীক্ষা হবে রংপুরে। অন্যদিকে রংপুর দূর্গ অক্ষুন্ন রাখতে আওয়ামী লীগ থাকবে মরিয়া। এই নির্বাচন নিয়ে বিএনপির আগ্রহ কম। কারণ রংপুরে বিএনপির অবস্থা ভালো নয়।

এই রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আভাস পাওয়া যাচ্ছিল বেশ কিছুদিন ধরে। গতকাল বুধবার এক সভায় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, ডিসেম্বরের শেষের দিকে নির্বাচন করার সম্ভাবনা রয়েছে। রংপুরে এবারই প্রথম দলীয় প্রতীকে সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। রংপুর আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টি উভয়েরই ঘাঁটি হিসেবে পরিচিতি। রংপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন সামনে রেখে মাঠে নেমেছে দলদুটি ছাড়াও বিএনপি, জাসদ, বাসদ, ইসলামী আন্দোলন, গণতন্ত্রীপার্টিসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল। বিভিন্ন দলের এক ডজন সম্ভাব্য প্রার্থী তাদের মাঠ গোছাতে ব্যস্ত। তবে সবার দৃষ্টি থাকবে আওয়ামী লীগ আর জাতীয় পার্টির দিকে।

রংপুরে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী বর্তমান মেয়র সরফুদ্দীন আহমদ ঝনটু। তিনি একাধারে রংপুর আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা, এক সময়ের উপজেলা ও পৌরসভা চেয়ারম্যান এবং সংসদ সদস্যও ছিলেন। তবে তিনি শুরু থেকেই আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ছিলেন না, জাতীয় পার্টির ঘাঁটি ছেড়ে ২০০০ সালে আওয়ামী লীগে এসেছেন। এছাড়া মনোনয়নের দৌঁড়ে আছেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য চৌধুরী খালেকুজ্জামান, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ড. জয়নুল আবেদীন, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মমতাজ উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রাজু, রংপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আবুল কাশেম ।

রংপুরে আওয়ামী লীগের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হলো জাতীয় পার্টির মোস্তাফিজার রহমান। তিনি মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি এবং এক সময়ের সাবেক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান। ইতোমধ্যে হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ তাকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণাও দিয়েছেন। সে অনুযায়ী নিচ্ছেন প্রস্তুতিও। এদিকে তাকে টপকে যেতে মাঠে নেমেছে জাতীয় পার্টির আরেক নেতা একেএম আব্দুর রউফ মানিক। তিনিও এক সময়ের সাবেক পৌরমেয়র। গতবারও মানিক প্রার্থী হয়েছিলেন।

তবে রংপুরে বিভিন্ন জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়কে প্রার্থী হওয়ার দাবী তুলেছেন আওয়ামী লীগের কর্মীরা। রংপুরে জয়ের জনপ্রিয়তাও কম নয়। সেদিক বিবেচনায় জয়ও হতে পারেন ভবিষ্যতের কোনো নির্বাচনে রংপুর আসনের প্রার্থী।

নৌকা আর লাঙ্গলের দৌঁড়ে রংপুর সিটি করপোরেশনে হয়তো পাত্তা পাবে না বিএনপি। জেলা বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল আর বেগম জিয়ার অনিশ্চিত লন্ডন সফর সে সম্ভাবনাকে আরও গাঢ়ও করেছে। এছাড়া রংপুরে ধানের শীষের আধিপত্য তো দূরে থাক অস্তিত্ব নামেমাত্র। তারপরও বিএনপির প্রার্থী হতে পারেন শহর বিএনপির সাবেক সভাপতি কাওসার জামান বাবলা, কেন্দ্রীয় বিএনপির ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প বিষয়ক সম্পাদক মোজাফফর হোসেন এবং মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সামসুজ্জামান সামু।

রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচন হয় ২০১২ সালে। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী সরফুদ্দীন আহমদ ঝনটু ১ লাখের কিছু বেশি ভোট পেয়েছিলেন। আর জাতীয় পার্টির মোস্তাফিজার রহমান ৭৭ হাজার ভোট পেয়েছিলেন। বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুর রউফ মানিক পেয়েছিলেন ৩৭ হাজার ভোট। মানিক ওই নির্বাচনে ফ্যাক্টর না হলে সেবার ফলাফল জাতীয় পার্টির দিকেই ঝুঁকে পড়ার সম্ভাবনা বেশি ছিল ।

৯ম এবং ১০ জাতীয় সংসদে রংপুর থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর থেকে এই অঞ্চলে হয়েছে ব্যাপক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড। ক্রমেই জনপ্রিয়তা বেড়েছে আওয়ামী লীগের। এদিকে হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের এলাকা হওয়ায় রংপুর জাতীয় পার্টিরও ভোটব্যাংক হিসেবে পরিচিত। গতবারের ভোটের ফলাফল বলছে এবার লড়াই হতে পারে হাড্ডাহাড্ডি। সিটি নির্বাচনের ফলাফলই প্রমাণ করবে, রংপুর আওয়ামী লীগ নাকি জাতীয় পার্টির ঘাঁটি।


বাংলা ইনসাইডার/এএন