ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২০, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Bangla Insider

ছাত্রলীগ সম্পদ নাকি দায়?

মাহমুদুল আলম
প্রকাশিত: ১৪ জুলাই ২০১৭ শুক্রবার, ০৫:২৩ পিএম
ছাত্রলীগ সম্পদ নাকি দায়?

আবার সামনে এসেছে ছাত্রলীগের অপরাজনীতি প্রসঙ্গ। বিশেষ করে চলতি এক মেয়াদে ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদকের আঙ্গুল ফুলে কালাগাছ হওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসায় এই নিয়ে চলছে কঠোর সমালোচনা।

শুধু সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্ব নয়, সিলেট এমসি কলেজ ও চট্টগ্রাম কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গত কয়েক দিনে নিজেদের মধ্যে চলা সংঘর্ষও এই সমালোচনা তীব্র  করছে। আর এ সব মিলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা ছাত্রলীগের একালের সঙ্গে সেকালকে মিলিয়ে দেখছেন। ভাবছেন আজকের ছাত্রলীগ মূল সংগঠন আওয়ামী লীগের জন্য দায় নাকি সম্পদ?

২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করার পর থেকে ছাত্রলীগের কার্যক্রম তুলে ধরে সংগঠনটির সাবেক নেতারা বলছেন, আজকাল ছাত্রলীগের নাম শুনলে মানুষ অন্যকিছু ভাবে। এক কথায় ছাত্রলীগ মানে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি আর দখলবাজি। দেশের অন্য প্রধান ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলের সঙ্গে তুলনা করে তাঁরা বলেন, অপকর্ম বিবেচনায় এই দুইটি সংগঠনের মধ্যে কোন পার্থক্য দেখছি না।

অথচ ছাত্রলীগ একটি ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন। ইতিহাসের সঙ্গে তুলনা করে তাঁরা বলেন, ছাত্রলীগের নেতৃত্বে গঠিত ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আন্দোলনের মুখে তৎকালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ আগরতলা মামলার আসামিদের মুক্তি দিতে আইয়ুব খান বাধ্য হয়েছিল। অথচ ২০০৯ সাল থেকে ছাত্রলীগ নেতাদের খাইখাই রাজনীতি শুরু হলেও এর অব্যাবহিত পূর্বে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দলের সভাপতি কারাগারে আটক থাকলেও তাঁদের কোন মিছিল-সমাবেশ করতে দেখা যায়নি।

বাংলাদেশের জন্মের ইতিহাসের সঙ্গে ছাত্রলীগের ইতিহাসকেও মিলিয়ে দেখেন সাবেক নেতারা। তাঁরা বলেন, যখনই পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাঙালি নেতাদের উপর অত্যাচারের স্টিম রোলার চালিয়েছে, ধরপাকড় করেছে গণহারে তখন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা প্রতিবাদ করে এগিয়ে গিয়েছিল সামনের দিকে। উদাহরণ দিয়ে তাঁরা বলেন, ১৯৭১ সালে মার্চের গণপরিষদের অধিবেশন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান স্থগিত করার সঙ্গে সঙ্গে ছাত্রলীগ এক দফার আন্দোলনের ডাক দিয়ে রাস্তায় নেমে পড়ে। একাত্তরের মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাধীন বাংলার পতাকা উড়িয়ে দিয়েছিল তাঁরা। পরের দিন মার্চ ঢাকার পল্টন ময়দানে লক্ষ জনতার সামনে তারা স্বাধীনতার ইশতেহার ঘোষণা করে।

নিকট অতীত থেকে সাবেক নেতারা বলেন, বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার একুশ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে ছাত্রলীগও প্রাণ ফিরে পায়। তবে সংগঠনটি বর্তমান অবক্ষয় ২০০৯ সাল থেকে শুরু হয় বলে মনে করেন তারা। গত কয়েকদিনসহ বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে আসা সংগঠনটির নেতা-কর্মীদের হাতে অস্ত্রসস্ত্রের ছবি প্রসঙ্গেও কথা বলেন সাবেক নেতারা। তাঁরা বলেন, একসময় ছাত্রলীগের কর্মীরা প্রচুর পড়াশোনা করতো। সাদামাটা জীবনযাপন করতো তাঁরা। সাধারণ পোশাক-আশাকের জীবন-যাপন ছিল তাঁদের। এ প্রসঙ্গে হালের ছাত্রলীগ নেতাদের ফ্ল্যাট-গাড়ি থাকার খবর গণমাধ্যমে আসার কথাও তুলে ধরেন তাঁরা।

ছাত্র সংগঠনটির আধিপত্য বিস্তারের রাজনীতি প্রসঙ্গে সাবেক ছাত্রলীগ নেতারা বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে তারা একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করতে মরিয়া। যার জন্য তারা নিজেদের মধ্যে মারামারি থেকে শুরু করে হত্যাযজ্ঞ পর্যন্ত চালায়। যে কারণে দলকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়।

তাঁরা বলছেন, সরকারের নানামূখী ইতিবাচক কর্মকান্ডের পরও ছাত্রলীগ ইস্যুতে দলকে অনেক মূল্য দিতে হবে। বিশেষ করে জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে এই বিষয়ে সর্বোচ্চ সাবধান হতে হবে আওয়ামী লীগকে। তাঁদের মতে, দলের এই অঙ্গ সংগঠনের মাধ্যমে কোন ইতিবাচক ইমেজ তৈরি হচ্ছে না দলের, অথচ নেতিবাচক ইমেজের পুরো দায়ভারই নিতে হচ্ছে দলকে।

বাংলা ইনসাইডার/এমএএম