ঢাকা, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২০, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Bangla Insider

ক্যান্সারে মানসিক বিপর্যয়

মারিয়া আলম
প্রকাশিত: ০৪ জুন ২০১৭ রবিবার, ০৪:৩৩ পিএম
ক্যান্সারে মানসিক বিপর্যয়

শরীরের এক ভয়াবহ রোগ ক্যান্সার। প্রতিনিয়ত শরীরকে একটু একটু করে নিঃশেষ করে দেয় এই রোগ। অসহায় শরীর জবাব দিতে থাকে এর নৃশংসতার কাছে। ক্যান্সার যতটা না ধ্বংস করে শরীরকে তার চেয়ে অনেক বেশি মনকে।

‘ঘরোয়া চেম্বারের’ এই পর্বে জানবো ক্যান্সার রোগীর মানসিক বিপর্যয় নিয়ে। পরামর্শ দিচ্ছেন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. কামরুজ্জামান চৌধুরী।

রোগীর মাঝে মানসিক চাপ কেন তৈরি হয়?

প্রাথমিক স্তরে ক্যান্সার ধরা পড়লে তা চিকিৎসার মাধ্যমে ভাল করা সম্ভব। তবে শেষ স্তরের রোগীদের ক্ষেত্রে তা সম্ভব নয়। ফলে রোগীকে প্রতিনিয়ত মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা করতে হয়। এই অপেক্ষার সময় রোগীকে করে তোলে হতাশাগ্রস্থ। এই হতাশাই রোগীর মাঝে মানসিক চাপ তৈরি করে।

শারীরিক পরিবর্তনের সঙ্গে মানসিক পরিবর্তন কি সম্পৃক্ত? 

অবশ্যই সম্পৃক্ত। একজন ব্যক্তি যখন ক্যান্সারে আক্রান্ত হয় তার মধ্যে বিভিন্ন শারীরিক পরিবর্তণ দেখা দেয়। সময়ের সঙ্গে পরিবর্তণগুলো গুরুতর সমস্যার আঁকার নেয়। পরিবর্তণ থেকে সমস্যার এই ব্যবধান এতোটাই ধীরগতির হয় যা রোগীকে অধৈর্য্য করে তোলে।

আয়নায় প্রতিদিন নিজেকে বদলাতে দেখা মোটেও সহজ কোন কাজ নয়। চুল পড়ে যাওয়া, শরীর ভেঙ্গে যাওয়া, চাপড়া কুচকে আসা ইত্যাদি তাকে প্রতিদিন দেখতে হয়, যা সহ্য করতে হয়।

আরেকটি যে বিষয় রোগীকে মানসিকভাবে দুর্বল করে দেয় তা হল চিকিৎসার খরচ। ক্যান্সার বেশ ব্যয়বহুল রোগ এবং সময় সাপেক্ষ। তাই অর্থের যোগান রোগীকে ভাবিয়ে তোলে।

সে নিজের জন্য কিছু করতে পারে না। নিজেকে তার অসহায় মনে হতে শুরু হয়। জীবনের সব স্বপ্ন যখন তীল তীল করে নিঃশেষ হয়, নিঃশেষ হয় তার বেঁচে থাকার ইচ্ছাও।

এক্ষেত্রে পরিবারের কী করণীয়?

ক্যান্সার যদি প্রাথমিক স্তরের হয় তাহলে তেমন দুশ্চিন্তার কিছু নেই । এসমর রোগীর সঙ্গে খোলা মেলা কথা বলাই ভাল। তাকে উৎসাহ দিতে হবে। তবেই সে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলবে স্বতস্ফুর্তভাবে।

তবে ক্যান্সার যদি হয় শেষ না মাঝামাঝি স্তরের তবে রোগীর মানসিক অবস্থা বুঝে তাকে জানাতে হবে। সেক্ষেত্রে কিছু বিষয় খেয়াল রাখতে হবে।

- রোগীকে রোগ সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে হবে। এতে সে চিকিৎসককে সহযোগিতা করতে পারবে।

- রোগীর আশেপাশে কান্নাকাটি করা যাবে না। এতে রোগী দ্রুত মনোবল হারিয়ে ফেলে।

- রোগীকে সর্বত্র সাহস দিতে হবে। তার সঙ্গে সময় কাটাতে হবে।

- মানসিক চাপের ফলে প্রায়ই তার ব্যবহারে পরিবর্তণ আসে যা ধৈর্য্য নিয়ে সামলাতে হবে।

- নিয়মিত মানসিক চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

মনে রাখতে হবে ক্যান্সার প্রতিনিয়ত ঠুকরে খায় শরীরকে। সেই সঙ্গে ধ্বংস করে মনকেও। তাই সমাজ ও পরিবার হিসেবে তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে।

ক্যান্সার সমস্যায় আপনার কোনো প্রশ্ন থাকলে এখানে ক্লিক করুন 

বাংলা ইনসাইডার/এমএ