ঢাকা, মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২০, ১৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Bangla Insider

টিকাদানে ১ শতাংশ বিড়ম্বনা

নিউজ ডেস্ক
প্রকাশিত: ২০ জুলাই ২০১৭ বৃহস্পতিবার, ০৫:১৯ পিএম
টিকাদানে ১ শতাংশ বিড়ম্বনা

‘মেয়ের তো কপাল খুলে গেলো। ছেলে তো একদম হিরো, যেমন গায়ের রঙ, তেমন উঁচা-লম্বা। আধুনিক ছেলে, ৯৯ শতাংশই ভালো। খালি একটু নাইট ক্লাবে যায় আরকি।’ এই বিজ্ঞাপনটির মতই অবস্থা বাংলাদেশের টিকাদান কর্মসূচির। বর্তমানে বাংলাদেশে এক বছরের নিচে শিশুদের প্রথম টিকা গ্রহণের হার প্রায় ৯৯ শতাংশ হলেও একটা কিন্তু রয়েই যায়। আর সেই কিন্তুর প্রতিফলনই সীতাকুণ্ডের শিশুমৃত্যুর ঘটনা।

সম্প্রতি, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অজ্ঞাত জ্বরে নয় শিশুর মৃত্যু। এরপর আক্রান্ত হয় আরও প্রায় অর্ধশত শিশু। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা এটিকে অজ্ঞাত ভাইরাসজনিত জ্বর বলে জানায়। পরে জানা যায়, অজ্ঞাত কোনো রোগ নয়, শিশুদের মৃত্যুর কারণ হাম।

রোগের লক্ষণ ও নমুনা ল্যাবরেটরি পরীক্ষা করে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) বলছে, ওই শিশুদের হামের টিকা নেওয়া ছিল না। স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত বাংলাদেশের শতভাগ এলাকায় হামের টিকা দেওয়া হলেও সীতাকুণ্ডের বারো আউলিয়ার ত্রিপুরাপাড়ায় কোনো হামের টিকা দেওয়া হয়নি। অর্থাৎ, ৪৭ বছরে সেই গ্রামের শিশুদের কখনোই টিকা দেওয়া হয়নি। এমনকি টিকাদানের যে ‘মাইক্রোপ্ল্যান ম্যাপ’, সেখানেও ওই গ্রামের নাম নেই। শুধু তাই নয়, পরীক্ষা করে দেখা গেছে,  পুষ্টিহীনতাতেও ভুগছিল ওই শিশুরা। অপুষ্টির কারণে সংক্রমণ তীব্র আকার করে এক জনের শরীর থেকে অন্যজনের শরীরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে গত সপ্তাহে কয়েক দিনের ব্যবধানে এমন মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ সংবাদমাধ্যমকে জানান, ‘দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে ওয়ার্ডভিত্তিক পরিকল্পনা অনুযায়ী টিকাদান কর্মসূচি পালিত হয়। কিন্তু সীতাকুণ্ড উপজেলায় সোনাইছড়ি ইউনিয়নের তালিকায় ত্রিপুরা পাড়ার নাম উল্লেখ নেই। ম্যালেরিয়া অন্যান্য কয়েকটি রোগ প্রতিরোধ প্রকল্পের আওতায় থাকলেও ত্রিপুরা পাহাড়ের ন’টি এলাকায় ৩৮৮ জন মানুষ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এ টিকাদান কর্মসূচির বাইরে ছিল। এ কারণে সেখানে কোনো টিকাদান কার্যক্রম ছিল না।’

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী জার্মানির সংবাদমাধ্যম ডয়েচ ভেলেকে বলেন, ‘স্থানীয়ভাবে দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই টিকাদানের মাইক্রোপ্ল্যান ম্যাপ তৈরি করা হয়। সেই তথ্য পাওয়া যায়নি বলেই ঐ গ্রামটিতে স্বাধীনতার পর থেকে কোনো টিকাদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়নি। তাই দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ছ’জন স্বাস্থ্য মাঠ কর্মীকে বদলি করা হয়েছে।’

অথচ সরকার থেকে বলা হচ্ছে শিশুদের টিকাদান কর্মসূচি একটি সফল প্রকল্প। সারা বিশ্বে প্রশংসিত। বিনামূল্যে ১০টি রোগের ১১টি টিকা দেওয়া হয়, এবং এটা ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত ম্যাপ করে দেওয়া হয়।

বাংলাদেশের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) শতভাগ সাফল্যের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছে। সরকার থেকে টিকাদান কর্মসূচির ৯৯ ভাগ সফলতার কথা বলা হলেও আসলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয় নি।

দেশের দূর্গম এলাকা এখনো টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। মাঠকর্মী ও সিভিল সার্জনদের অবহেলা-উপেক্ষা, বানোয়াট রিপোর্টের ফলে টিকাদান কর্মসুচি এখনো সফল হয়নি। এ ঘটনা নতুন নয়। অনেক আগে থেকেই চর এলাকা, পাহাড়ি এলাকাসহ অন্যান্য দূর্গম এলাকা এই টিকাদান কর্মসূচীর আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।

বাংলা ইনসাইডার/ আরএ