ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২০, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ

Bangla Insider

এসব কথা খুব খারাপ লেগেছে: মুশফিক

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬ জুলাই ২০১৭ রবিবার, ০১:৩০ এএম
এসব কথা খুব খারাপ লেগেছে: মুশফিক

ফ্রাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট মানেই যেন বিতর্ক। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগও এর ব্যতিক্রম নয়। এই টুর্নামেন্টেই ম্যাচ ফিক্সিংয়ে জড়িয়ে দেশসেরা ক্রিকেটার আশরাফুল আজ হারিয়ে যাওয়ার পথে। কিন্তু এইবার যে বিতর্কের ডালপালা ছড়িয়েছে তা যেন অন্য সব কিছুর থেকে আলাদা।

২০১৬ বিপিএলে বরিশাল বুলসের হয়ে খেলিছিলেন মুশফিক। কয়েকদিন আগে দেশের একটি গণমাধ্যমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বুলসের অন্যতম স্বত্বাধিকারী আবদুল আওয়াল মুশফিকিকে জড়িয়ে অপ্রীতিকর মন্তব্য করে বসেন। আর এতেই এখন দেশের ক্রীড়াঙ্গন উত্তপ্ত। প্রশ্ন উঠেছে কোনো ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেটারদের সম্পর্কে এধরনের মন্তব্য করতে পারেন কিনা?

তাও আবার সেই ক্রিকেটার, যার অধীনে টাইগাররা সবচেয়ে বেশি টেস্ট ম্যাচ জিতেছে।  

মুশি এত বছর ধরে খেললেও কেউ কোনদিন তার বিরুদ্ধে কোন প্রশ্ন তোলেননি। কিন্তু হুট করেই বিসিবির অন্যতম পরিচালক ও বিপিএলের দল বরিশাল বুলসের স্বত্বাধিকারী আবদুল আওয়াল তাঁকে নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন সে ধরনের মন্তব্য বা অভিযোগ আগে কখনো শুনেছেন কি না, মনে করতে পারেননি মুশফিক।

মুশফিক উইকেটের পেছনে বাংলাদেশের ভরসার প্রতীক। একই সঙ্গে তিনি টেস্ট দলেরও অধিনায়ক। মুশফিকের বয়স ২৮, আর ক্রিকেট খেলছেন মোট ১৭ বছর। তার মধ্যে জাতীয় দলকে বিলিয়ে দিয়েছেন ১২ বছর।

মুশফিক গত বিপিএল খেলেছেন বরিশাল বুলসের ‘আইকন’ হিসেবে। যদিও তিনি নাকি সে দলে খেলতে রাজি ছিলেন না। বিসিবির অনুরোধেই পরে রাজি হয়েছিলেন। টুর্নামেন্টের শুরুর দিকে ভালো খেললেও মাঝপথে ছন্দ হারিয়ে ফেলে তাঁর দল। পরে শেষ চারেও উঠতে পারেনি বরিশাল।

দলের পারফরম্যান্স যাই হোক, মুশফিকের ব্যাটিং নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। ১২ ম্যাচে ৩৭.৮৮ গড়ে ৩৪১ রান করে দলের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে তিনিই ছিলেন সবার ওপরে। তবে মুশফিকের অধিনায়কত্ব পছন্দ করেননি আবদুল আওয়াল। এমনকি তিনি মুশফিকের আচরণ নিয়েও সমস্যা আছে এটাও বলছেন।

সংবাদমাধ্যমকে এ নিয়ে বলতে গিয়ে আবেগতাড়িত হয়ে গেলেন বাংলাদেশ টেস্ট অধিনায়ক, ‘আপনারা নিশ্চয়ই জানেন আমাকে নিয়ে এমন প্রশ্ন ওঠে না। হ্যাঁ, মাঠের পারফরম্যান্স নিয়ে তিনি মন্তব্য করতে পারেন। বলতে পারেন আমি ভালো খেলোয়াড় নই। তবে আমার শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে তিনি যে প্রশ্ন তুলেছেন কিংবা আমি খেলোয়াড়দের উজ্জীবিত করতে পারি না, টিম মিটিংয়ে কথা বলি না—এসব কথা খুব খারাপ লেগেছে।

এত বড় একটি টুর্নামেন্টের একটি দলের স্বত্বাধিকারী হয়েও তার এমন মন্তব্যে মুশফিক মর্মাহত। আবেগতাড়িত মুশফিক সংবাদ সম্মেলনেই কেঁদে ফেলেন। ভেজা গলায় বলেন, ‘মল্লিক ভাই (বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্যসচিব) বলছেন, ওনারা ব্যাপারটা দেখবেন। আজ আমার সঙ্গে হয়েছে। কাল অন্যদের সঙ্গে যে হবে না, এ নিশ্চয়তা নেই। একজন খেলোয়াড় এতটুকু সম্মান আশা করতেই পারে। দেশকে এত দিন সেবা দিচ্ছি, এতটুকু সম্মান...।’

বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইসমাইল হায়দার মল্লিক বলেছেন,‘পুরো ব্যাপারটা দেখেছি, শোভনীয় মনে হয়নি। এটা গ্রহণযোগ্য নয়। জাতীয় দলের অধিনায়ক ও একজন খেলোয়াড়কে নিয়ে তিনি এভাবে বলতে পারেন না। তাঁকে ডাকা হয়েছে। আমরা কারণ দর্শানোর নোটিশ দেব। যথাযথ উত্তর না পেলে ফ্র্যাঞ্চাইজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। সেটা হতে পারে আর্থিক কিংবা অন্য কোনো শাস্তি’।

গতবার বিপিএল চলাকালীন বরিশাল বুলসের শুভেচ্ছাদূত কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর মুশফিককে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। পড়ে মুশফিক তাকে পাগল বলেছিলেন। এবার দলের মালিকদেরই একজন মুশফিককে নিয়ে প্রশ্ন তুললেন।

সমর্থকরা না হয় আবেগতাড়িত হয়ে অপ্রীতিকর মন্তব্য করে বসেন। কিন্তু ক্রিকেটে যারা হর্তাকর্তা তাদের কাছ থেকে একজন দেশসেরা ক্রিকেটাররের ব্যাপারে এরকম মন্তব্য কতটা সমচীন?

কিন্তু এভাবে আর কতদিন জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের হেয় প্রতিপন্ন হতে হবে? কবে তারা তাদের প্রাপ্য সম্মানটুকু পাবেন? কেই বা দেবে এই প্রশ্নের উত্তর? 


বাংলা ইনসাইডার/এনআই/ডিআর


বিষয়: বিপিএল